প্রধানমন্ত্রীর কাছে এপিএ চুক্তি হস্তান্তর করলেন ৪৩টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব

১৫ জুলাই, ২০২৪ ১৩:১৩  

২০২৪-২৫ অর্থবছরে সারা দেশে প্রায় ছাব্বিশ হাজার সরকারি অফিস ‘বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি’ (এপিএ) স্বাক্ষর করেছে। সোমবার (১৫ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় শাপলায় অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রধানদের মতো যথাক্রমে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সচিব সামসুল আরেফিন, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব ড. মো: মুশফিকুর রহমান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব আমির হোসেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব চুক্তি সই করে তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন।

তারাসহ ৪৩টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবেরা সবাই এপিএ চুক্তি সরকার প্রধানের কাছে হস্তান্তর করেন। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম সবার প্রথমে চুক্তিপত্র হস্তান্তর করেন। সবার শেষে জমা দেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক সচিব ড. হাফিজ ‍উদ্দিন চৌধুরী।

এসময়  জনপ্রশাসন মন্ত্রী ফরহাদ হোসেন ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয় ও বিভাগের এপিএ স্বাক্ষরের পাশাপাশি বিগত ২০২২-২৩ অর্থবছরে এপিএ বাস্তবায়নে মোট ১১টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। সেরা ১১টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ যথাক্রমে ১. বিদ্যুৎ বিভাগ ২. জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ৩. জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ ৪. পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ৫. কৃষি মন্ত্রণালয় ৬. সেতু বিভাগ ৭. সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ৮. খাদ্য মন্ত্রণালয় ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় (যৌথভাবে) ৯. পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ এবং ১০. অর্থ বিভাগ।

বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সচিব মোঃ হাবিবুর রহমান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোঃ নূরুল আলম, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব নাজমুল আহসান, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ওয়াহিদা আক্তার, সেতু বিভাগের সিনিয়র সচিব মোঃ মঞ্জুর হোসেন, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এ বিএম আব্দুলাহ, যৌথভাবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোকাম্মল হোসেন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ ইসমাইল হোসেন, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মোছাঃ শাহানারা খাতুন এবং অর্থ বিভাগের সচিব ড. মোঃ খাইরুজ্জামান মজুমদার সম্মাননা গ্রহণ করেন।

প্রতিবছর মন্ত্রণালয় ও বিভাগের এপিএ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে শুদ্ধাচার পুরস্কারও প্রদান করা হয়ে থাকে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সিনিয়র সচিব ও সচিবগণের মধ্য হতে ব্যক্তিপর্যায়ে শুদ্ধাচার চর্চার স্বীকৃতিস্বরূপ মো. মাহবুব হোসেন, সচিব, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়-কে ‘শুদ্ধাচার পুরস্কার, ২০২৩-২৪’ প্রদান করা হয়।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে এপিএ প্রণয়ন, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়নের কাজটি এপিএএমএস নামে একটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হচ্ছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সমন্বয় ও সংস্কার ইউনিট এপিএ প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগসহ সব পর্যায়ের সরকারি অফিসকে সহযোগিতা করে যাচ্ছে।

এ নিয়ে তথ্যবিবরণীতে জানানো হয়, এপিএ চুক্তিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কৌশলগত উদ্দেশ্য, গৃহীত কার্যক্রম ও লক্ষ্যমাত্রা এবং এ সব কার্যক্রমের বাস্তবায়ন অগ্রগতি পরিমাপের জন্য কর্মসম্পাদন সূচক বিধৃত রয়েছে। মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বার্ষিক ও মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এপিএ’র আওতায় বিভিন্ন কার্যক্রমের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। ২০১৪-১৫ অর্থবছর থেকে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এপিএ স্বাক্ষর করছে। পরবর্তী সময়ে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে অধীনস্ত দপ্তর, সংস্থার এপিএ স্বাক্ষর শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বিভাগীয়, আঞ্চলিক এবং জেলা পর্যায়ের অফিসসমূহকে এপিএ’র আওতায় আনা হয়। সব শেষে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে উপজেলা পর্যায়ের অফিসসমূহে এপিএ সম্প্রসারিত হয়।